রংপুর–৪ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জামায়াত নেতার ‘কোরবানি’ বক্তব্যে তীব্র বিতর্ক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রংপুর–৪ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জামায়াত নেতার ‘কোরবানি’ বক্তব্যে তীব্র বিতর্ক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 11, 2026 ইং
রংপুর–৪ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জামায়াত নেতার ‘কোরবানি’ বক্তব্যে তীব্র বিতর্ক ছবির ক্যাপশন:
ad728

রংপুর–৪ (পীরগাছা–কাউনিয়া) আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রেক্ষাপটে দেওয়া জামায়াত নেতার একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। বক্তব্যটি ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা। ভিডিওতে বক্তব্য দেন রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান।

গত বৃহস্পতিবার রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকায় আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন। সভায় তিনি বলেন, ২৮ ডিসেম্বর সকালে একটি কেন্দ্র থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয় যে তাঁকে ‘কোরবানি দেওয়া হয়েছে’। এ সময় তিনি কোরবানির উপমা ব্যবহার করে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)–এর ঘটনার সঙ্গে তুলনা টানেন। বক্তব্যের প্রায় ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

এ টি এম আজম খান রংপুর–৪ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জামায়াতের নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবে এই আসনটি এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে কারণে আজম খান মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আখতার হোসেনকে সমর্থন জানিয়ে ওই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন তিনি। সভায় আখতার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে শনিবার আজম খান বলেন, তাঁর বক্তব্যটি উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের প্রত্যাশা বোঝাতে গিয়ে তিনি এ উপমা ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, মূলত নেতার প্রতি আনুগত্য, আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্যের বিষয়টি বোঝাতেই কথাটি বলা হয়েছে। জনগণের মতামত ও রাজনৈতিক অবস্থানের ত্যাগকেই তিনি ‘কোরবানি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে তাঁর এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ধর্মীয় কোরবানির সঙ্গে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের তুলনা করা অনুচিত। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার শামিল।

অন্যদিকে, রংপুর–৪ আসনে বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী প্রগতি বর্মন বলেন, ভোট ও রাজনীতি এক বিষয়, আর ধর্ম আরেক বিষয়। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত পরিসরে থাকা উচিত এবং রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম মেশানো হলে তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

সব মিলিয়ে, রংপুর–৪ আসনের নির্বাচন ঘিরে জামায়াত নেতার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জামায়াত–এনসিপিসহ ১০ দলের সমঝোতা, আসন চূড়ান্তে চলছে শেষ মুহূর

জামায়াত–এনসিপিসহ ১০ দলের সমঝোতা, আসন চূড়ান্তে চলছে শেষ মুহূর