জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে— এমন অপপ্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসা জামায়াতে ইসলামীর হৃদয় এবং কলিজার মতো। ইসলামি শিক্ষাকে টিকিয়ে রাখতে কওমি মাদ্রাসার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ পার্ক ও খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কওমি মাদ্রাসা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বলা হচ্ছে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতা বিবর্জিত এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা।
তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসাই ইসলামি শিক্ষার মূল ধারাকে পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করে রেখেছে। যুগ যুগ ধরে এসব মাদ্রাসা আলেম-ওলামা তৈরি করে ইসলামি শিক্ষা ও মূল্যবোধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা কওমি মাদ্রাসার সঙ্গে পরামর্শ করেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করব। কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ উৎকর্ষ কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, কীভাবে এই শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করা যায়— সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার মান ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই শিক্ষাকে কীভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা যায়, সেটিই হবে আমাদের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী কথার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা মুখে নয়, কাজে প্রমাণ করতে চাই। কওমি মাদ্রাসা ও ইসলামি শিক্ষার পক্ষে আমাদের অবস্থান ইনশাআল্লাহ বাস্তব কর্মসূচির মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে।
নির্বাচনি সমাবেশে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে তিনি কওমি মাদ্রাসা নিয়ে অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ইসলামি শিক্ষা ও মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করেন।
কসমিক ডেস্ক