নারীর নেতৃত্ব কোরআনের পরিপন্থি—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেন, কোরআনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী নারীদের পরিচালনার দায়িত্ব পুরুষদের ওপর ন্যস্ত। তার ভাষায়, ইসলাম ধর্ম অনুসারে পুরুষই নারীর পরিচালক। যেহেতু জামায়াত একটি ইসলামী সংগঠন, তাই কোনো ইসলামী সংগঠনে নারীরা পরিচালক বা শীর্ষ নেতৃত্বে যেতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের অবস্থান ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে নির্ধারিত এবং এ ক্ষেত্রে তারা কোরআনের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেখেন না।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সাম্প্রতিক অভিযোগের প্রসঙ্গও উঠে আসে। নজরুল ইসলাম খান নির্বাচন কমিশনে দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরে কিছু গোষ্ঠী ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় হচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তৈরি করছে।
এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেন, সুস্থ কোনো রাজনৈতিক দল বা সুস্থ মানসিকতার মানুষ শান্তি কমিটির মতো বিষয়ে কথা বলতে পারে না।
এর আগে রোববার জামায়াত নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের জানান, জামায়াতের নারী কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি ইসিকে জানানো হয়েছে এবং বিষয়টিকে তারা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন। তার অভিযোগ, নারীদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে জামায়াত আমির কথা বলার সময়ই পরিকল্পিতভাবে তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, গত শনিবার জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে একটি অবমাননাকর পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় শনিবার ভোররাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন দলটির নির্বাচন প্রচারণা টিমের সদস্য ও ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।