জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ–বকশীগঞ্জ) আসনে গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা গণ অধিকার পরিষদ। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মামুন মিয়া ও ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব দুলাল হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গণ অধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন ডাংধরা ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব দুলাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কেন্দ্রীয় সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের নির্দেশনা অমান্য এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের কারণে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, রফিকুল ইসলামের কোনো নির্বাচনী কার্যক্রমে গণ অধিকার পরিষদের উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ের কোনো নেতা-কর্মী অংশ নেবেন না।
দুলাল হোসেন বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন করে সাংগঠনিক কাঠামো গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা গণ অধিকার পরিষদ একতরফাভাবে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে, যা তিনি মানেন না। তিনি দাবি করেন, তিনি দলীয় আদর্শ ও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, তিনি নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখবেন এবং ভোটারদের সমর্থনে বিজয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। তবে দলীয় কমিটির অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাংগঠনিক টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসছে। জামালপুর-১ আসনে গণ অধিকার পরিষদের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
কসমিক ডেস্ক