গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় কৃষক দল নেতা হেলাল উদ্দিন (৫৫) নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের কোটবাজালিয়া বাজার এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত হেলাল উদ্দিন কাপাসিয়া উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি চাঁদপুর ইউনিয়নের কোটবাজালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন পরিচিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতের কোনো এক সময় কোটবাজালিয়া বাজার এলাকা অতিক্রম করার সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র ও শাবল দিয়ে পেছন দিক থেকে হেলাল উদ্দিনের পিঠে আঘাত করে। হামলার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেফার করেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কৃষক দল গাজীপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব ফকির ইস্কান্দার আলম জানু বলেন, “হেলাল উদ্দিন কাপাসিয়া উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তাকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোটবাজালিয়া গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, নিহত হেলাল উদ্দিনের ভাতিজার সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, নিহতের ভাতিজার সঙ্গে মোবাইল ফোন চুরি সংক্রান্ত বিষয়ে ঘটনার আগের দিন হেলাল উদ্দিনের তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ মনে করছে।
ওসি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক