আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামানের একটি বিতর্কিত ভিডিও। ভিডিওটিতে এক্সিম ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখার ব্যবস্থাপককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার দৃশ্য দেখা গেছে, যেখানে খালিদুজ্জামান ও তার সহযোগীদের মারমুখী আচরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রায় ১ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। এটি গত বছরের ১৭ আগস্ট ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, খালিদুজ্জামান ও তার কয়েকজন সহযোগী এক্সিম ব্যাংকের ভেতরে উত্তেজিত অবস্থায় উপস্থিত রয়েছেন। একপর্যায়ে খালিদুজ্জামানকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়। এতে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরাও উৎসাহিত হয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। ভিডিওতে গালিগালাজের শব্দও শোনা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর এমন আচরণকে অগ্রহণযোগ্য ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করছেন। নির্বাচনের সময় এই ধরনের ভিডিও প্রার্থীর ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে স ম খালিদুজ্জামানের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার পক্ষ থেকে ভিডিওটি বা ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, এটি প্রথম নয়। এর আগেও গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খালিদুজ্জামানের আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে তাকে গানম্যানসহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ভেতর দিয়ে চলাচলের সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে বচসায় জড়াতে দেখা যায়। ওই ঘটনাটিও সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
পরপর দুটি বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি এবং একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক