করব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ জাতীয় কর কমিটির The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

করব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ জাতীয় কর কমিটির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 27, 2026 ইং
করব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ জাতীয় কর কমিটির ছবির ক্যাপশন:
ad728

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় একাধিক হার পরিহার করে একক ভ্যাটহারের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত কমিটি। কমিটির মতে, বর্তমানে বিভিন্ন খাতে ভ্যাটের বহুমাত্রিক হার করব্যবস্থাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল ও অদক্ষ করে তুলেছে, যা রাজস্ব আহরণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনটি জমা দেন কমিটির সভাপতি এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান।

‘উন্নয়নের জন্য করনীতি: করব্যবস্থার পুনর্গঠনে সংস্কার কর্মসূচি’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে মোট ৫৫টি নীতিগত সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান করব্যবস্থা পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। ফলে খণ্ডিত সংস্কারের বদলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সাতটি নীতিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে কর–জিডিপি অনুপাত বর্তমান ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে উন্নীত করা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ থেকে ২০ শতাংশে নেওয়া। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের অনুপাত বর্তমান ৩০:৭০ থেকে ৫০:৫০–এ উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

করব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা, সহজ কর কাঠামো এবং প্রণোদনা ব্যবস্থার পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। বাণিজ্য করের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কর আহরণ বাড়ানোর কৌশলগত পরিবর্তনের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে রপ্তানি ও আমদানির বিকল্প পণ্যের কার্যকর সুরক্ষা সমান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পণ্য খালাসে আলাদা ভ্যালুয়েশন ডেটাবেজের প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করে বন্দরে মূল্যায়নের পরিবর্তে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স নিরীক্ষা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে সময় সীমিত হলেও নীতিগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনই শুরু করতে চান তাঁরা। তাঁর মতে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আহরণের খাত ও পদ্ধতি আরও স্পষ্ট হবে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন আনবে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রতিবেদন সরকারকে একটি কার্যকর গাইডলাইন দেবে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কমিটির সভাপতি জায়েদী সাত্তার বলেন, গত এক দশকে রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি অতিমাত্রায় জটিল হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার করা গেলে এর ইতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হবে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান বলেন, প্রতিবেদনে কর খাতের বিদ্যমান সংকটগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের টেকসই অগ্রগতির জন্য রাজস্ব আয় বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি ব্যাখ্যায় আজ সব দলের সঙ্গে ইসির আলোচনা

পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি ব্যাখ্যায় আজ সব দলের সঙ্গে ইসির আলোচনা