অনলাইন হয়রানিকেও যৌন হয়রানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগ সরকারের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অনলাইন হয়রানিকেও যৌন হয়রানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগ সরকারের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 29, 2026 ইং
অনলাইন হয়রানিকেও যৌন হয়রানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগ সরকারের ছবির ক্যাপশন:
ad728

ডিজিটাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণকেও যৌন হয়রানির আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রস্তাবিত আইনে শারীরিক ও মৌখিক আচরণের পাশাপাশি ইঙ্গিতপূর্ণ, অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক আচরণকে যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, খসড়া অধ্যাদেশে যৌন হয়রানির সংজ্ঞা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে শারীরিক, মৌখিক ও অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ) আচরণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং অ্যাপসহ ডিজিটাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণও যৌন হয়রানি হিসেবে বিবেচিত হবে। জেন্ডারভিত্তিক সব ধরনের হয়রানিকেই আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হবে। এসব কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। অভিযোগ গঠনের সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় সার্ভাইভারকেন্দ্রিক পদ্ধতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে সুবিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট বিধানও রাখা হয়েছে।

যেসব ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন সম্ভব নয়—বিশেষ করে অসংগঠিত খাতে—সেখানে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠন এবং ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে একই বৈঠকে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়াতেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে শারীরিক, মানসিক, যৌন ও আর্থিক নির্যাতনকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, ২৩ মার্চকে বিএনসিসি দিবস ঘোষণা এবং গায়ানায় বাংলাদেশের মিশন স্থাপনসহ মোট ১১টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা