তেল কমতেই সোনায় ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা, দাম আকাশছোঁয়া The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

তেল কমতেই সোনায় ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা, দাম আকাশছোঁয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 6, 2026 ইং
তেল কমতেই সোনায় ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা, দাম আকাশছোঁয়া ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় উত্থান দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা কমে আসার ইঙ্গিত এবং সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খবর বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে।

বিশ্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ শক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান-এর মধ্যে চলমান সংঘাত শেষের পথে—এমন আশাবাদ তৈরি হওয়ায় বাজারে এক ধরনের পুনর্বিন্যাস দেখা যাচ্ছে।

মার্কিন গণমাধ্যম CNBC-এর তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৭০৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে জুন ডেলিভারির স্বর্ণ ফিউচারও একই হারে বেড়ে ৪,৭১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্থানের পেছনে মূল কারণ হলো ডলারের দুর্বলতা এবং তেলের দাম কমে যাওয়া। সাধারণত যখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকে বা মুদ্রার মান কমে যায়, তখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও ঠিক সেটিই ঘটছে।

বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভট্রেডসের বিশেষজ্ঞ রিকার্ডো এভানজেলিস্তা বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি কমতে পারে। এতে করে ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর পরিবেশ তৈরি হবে, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক। তার মতে, বছর শেষে স্বর্ণের দাম ৫,০০০ ডলার ছাড়িয়ে ৫,৫০০ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে।

শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, রুপার দাম ৫.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬.৯৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও যথাক্রমে ৩.৪ ও ৩.৩ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে, তেলের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ৯.২ শতাংশ কমে ৯২.৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তেলের দাম কমার ফলে বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। S&P 500, Dow Jones Industrial Average এবং Nasdaq Composite—এই তিন প্রধান সূচক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম বেশি থাকলে তা মূল্যস্ফীতি বাড়ায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করে। এতে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। কিন্তু বর্তমানে তেলের দাম কমায় সেই চাপ কিছুটা কমেছে, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।

ডলারের দুর্বলতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কারণ ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ অন্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়, ফলে চাহিদা বাড়ে।

এখন বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে, তেলের দাম কমা, ডলারের দুর্বলতা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন—এই তিনটি বড় কারণ একসঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপার দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটিয়েছে


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ইসরায়েলি হামলার পর প্রতিশোধের ভাষায় মোজতবা খামেনি

ইসরায়েলি হামলার পর প্রতিশোধের ভাষায় মোজতবা খামেনি