দেশের স্বর্ণবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সর্বশেষ ঘোষণায় সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম কমেছে। এই পরিবর্তনের প্রভাবেই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার দাম নির্ধারণে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামও কমানো হয়েছে। নতুন দরে—
- ২১ ক্যারেট সোনার ভরিতে ২ হাজার ৪১ টাকা কমে দাম হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা
- ১৮ ক্যারেট সোনার ভরিতে ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমে দাম হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা
- সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরিতে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমে দাম নির্ধারণ হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা
এই দামে পরিবর্তন স্বর্ণক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবার দাম কমানো হলো। ফলে বাজারে দামের ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতিও সোনার দামে প্রভাব ফেলে। তেজাবি সোনার দামের পরিবর্তন সরাসরি এই বাজারে প্রতিফলিত হয়।
সোনার দাম কমানো হলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে রুপার বাজার আগের অবস্থাতেই রয়েছে।
সোনার দাম কমায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম বা বিশেষ অনুষ্ঠানের আগে এই ধরনের মূল্যহ্রাস ক্রয় প্রবণতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরাও নতুন দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, স্বর্ণবাজারে দামের এই পরিবর্তন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সোনার দাম আবার বাড়তে বা কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।