স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা জাহের আলভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আংশিক আবেদন মঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ড অনুমোদন দেন।
শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন জাহের আলভী। তিনি বলেন, তিনি অভিনয়জগতে ফেরার জন্য নয়, বরং নিজের সন্তানের পাশে থাকার সুযোগ পাওয়ার জন্য জামিন চেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তান ইতোমধ্যে মাকে হারিয়েছে এবং বর্তমানে তাকে মানসিকভাবে সহায়তা করা প্রয়োজন।
আলভী আদালতে দাবি করেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সাধারণ পারিবারিক মনোমালিন্য থাকলেও তাদের সম্পর্ক মোটের ওপর ভালো ছিল। তিনি বলেন, আত্মহত্যার মতো কোনো পরিস্থিতি তাদের সংসারে সৃষ্টি হয়নি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত কিছু ছবি ও তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, একটি মেহেদি-সংক্রান্ত ছবি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং সেটি ব্যবহার করে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
শুনানিতে অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথিকে নিয়ে আলোচিত অভিযোগের বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি। আলভীর ভাষ্য, নেপালে তার সফর ছিল পেশাগত কাজের অংশ এবং সেখানে নাটকের শুটিং ইউনিটের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যক্তিগত কোনো ভ্রমণ হিসেবে বিষয়টিকে উপস্থাপন করা ঠিক নয় বলে তিনি আদালতে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মামলার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানিয়ে যুক্তি দেন যে, মামলাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের বাহ্যিক প্রভাব না পড়ে।
শুনানির সময় ইকরার দেওয়া একটি হলফনামার বিষয়ও আদালতের নজরে আনা হয়। আসামিপক্ষের দাবি, ওই নথিতে পারিবারিক কিছু ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ ছিল। পরে আসামিপক্ষ জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরাকে লক্ষ্য করে অপমানজনক ও উসকানিমূলক বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিবাহিত অবস্থায় অন্য এক নারীর সঙ্গে ছবি প্রকাশ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়েও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে আরও তথ্য সংগ্রহ, ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য জানতে রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ মার্চ রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় জাহের আলভীর পাশাপাশি তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হলেও জাহের আলভী শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তদন্ত এখনো চলমান থাকায় মামলার চূড়ান্ত সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
কসমিক ডেস্ক