অবৈধ অভিবাসন ও শ্রম শোষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইতালি সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো কর্মী নিয়োগ করলে সংশ্লিষ্ট মালিককে এখন আগের চেয়ে বেশি জরিমানা গুনতে হবে। নতুন করে নির্ধারিত এই জরিমানার পরিমাণ ৩ হাজার ৬৩৭ দশমিক ৮৭ ইউরো, যা মূলত অবৈধ কর্মীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর খরচ হিসেবে আদায় করা হবে।
ইতালি পুলিশের প্রধানের জারি করা নতুন ডিক্রি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় এই জরিমানার অঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর যেখানে প্রত্যাবাসন ব্যয় বাবদ জরিমানা ছিল ২ হাজার ৮৬৪ ইউরো, সেখানে এবার তা প্রায় ৭৭০ ইউরো বাড়ানো হয়েছে। আইনটি গত ২০ জানুয়ারি ইতালির অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশিত হয় এবং প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়েছে।
ইতালির ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী, অবৈধ কর্মী নিয়োগ কেবল একটি প্রশাসনিক বা আর্থিক অপরাধ নয়, বরং এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত। এ অপরাধে অভিযুক্ত মালিকের সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি প্রতি অবৈধ কর্মীর জন্য ৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত মূল জরিমানার বিধান রয়েছে। নতুন ঘোষিত ৩ হাজার ৬৩৭ ইউরোর জরিমানা এই শাস্তির সঙ্গে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হবে।
আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো মালিক একাধিক অবৈধ কর্মী নিয়োগ করেন—বিশেষ করে তিনজনের বেশি, অথবা অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাজে লাগান কিংবা শ্রম শোষণের সঙ্গে জড়িত থাকেন—তাহলে শাস্তির মাত্রা আরও কঠোর হবে। ইতালিতে এই ধরনের শ্রম শোষণ ব্যবস্থাকে ‘কাপোরালাতো’ নামে চিহ্নিত করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির শ্রমবাজারের একটি বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাড়তি জরিমানার অর্থ অবৈধ অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিমান ভাড়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর কাজে ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক চাপ কমানোর পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই আইন অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমবাজারে শোষণ বন্ধ করার ক্ষেত্রে ইতালির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে একই সঙ্গে এতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ইতালিতে প্রবেশ ও কাজ করা আগের চেয়ে আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক