মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে আবারও ইরান থেকে ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস বা আইডিএফ রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬, তাদের আনুষ্ঠানিক টেলিগ্রাম বার্তায় জানায়, অল্প কিছুক্ষণ আগে তারা ইরান থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সরাসরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এই বার্তা থেকে বোঝা যায়, পরিস্থিতিকে তারা তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। আইডিএফ সাধারণ মানুষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলতে বলেছে। তাদের দাবি, এসব নির্দেশনা জীবন বাঁচাতে সহায়ক। পরবর্তী আপডেটে আইডিএফ আরও জানায়, ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের যেসব স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে, সেখানে উদ্ধারকাজে হোম ফ্রন্ট কমান্ড ও জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আপডেটেও নতুন হামলার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সতর্কবার্তার পর জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেরুজালেমসহ মধ্য ইসরায়েলের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দের খবর আসে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এই তথ্য ইঙ্গিত করছে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র বা তার ধ্বংসাবশেষ আঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছিল।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিও নতুন দফা হামলা শুরু হওয়ার দাবি করেছে বলে আন্তর্জাতিক কভারেজে উল্লেখ আছে। তবে এই নির্দিষ্ট দাবির পূর্ণ সরকারি বিবৃতি আমি সরাসরি যাচাই করতে পারিনি। তাই এটিকে দাবি হিসেবেই দেখা উচিত, নিশ্চিত স্বাধীন যাচাইকৃত তথ্য হিসেবে নয়।
একই দিনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে বলেও তথ্য মিলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সংশ্লিষ্ট পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে এই অংশটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সূত্রে পাওয়া, তাই এটিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। স্বাধীনভাবে যাচাই করা সরকারি ওয়েব প্রকাশনা আমার হাতে আসেনি।
বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এরই মধ্যে দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। ২১ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রায় ২০০ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ২২ মার্চের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি চলমান সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলারই অংশ।
সব মিলিয়ে, ২২ মার্চ রোববার ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ইসরায়েলে সতর্কতা জারি, মোবাইলে জরুরি বার্তা প্রেরণ এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার বিষয়টি একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে মিলেছে। জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবরও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে। তবে হতাহত, আঘাতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এবং ইরান ও উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের পাল্টা দাবিগুলো এখনও দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। নতুন তথ্য এলে ঘটনাপ্রবাহ আরও পরিষ্কার হবে।
কসমিক ডেস্ক