ইইউর সিদ্ধান্তের জবাবে ইউরোপীয় সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী বলল তেহরান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইইউর সিদ্ধান্তের জবাবে ইউরোপীয় সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী বলল তেহরান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 1, 2026 ইং
ইইউর সিদ্ধান্তের জবাবে ইউরোপীয় সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী বলল তেহরান ছবির ক্যাপশন:
ad728

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান। তেহরানের এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ইইউ ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের আইন অনুযায়ী ৭ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গালিবাফ বলেন, “ইউরোপীয়রা আসলে নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছে। আবারও তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখিয়ে নিজেদের জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ইইউর এই সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যায় না।

কাজা কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় লিখেছেন, “যে কোনো শাসনব্যবস্থা যখন নিজের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে, তখন সে নিজেই নিজের পতনের পথ তৈরি করে।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজার ৭১৩ জন নিহত হয়েছে। প্রথমদিকে এই বিক্ষোভ অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।

আইআরজিসি ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ শাখা, যা ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে এবং সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে জবাবদিহি করে। ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি, বৈদেশিক সামরিক অভিযান এবং মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে আইআরজিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি সন্ত্রাসী তকমা ইরান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর প্রভাব পড়তে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জলাবদ্ধতার সমাধানে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ‘স্পঞ্জ সিটি’

জলাবদ্ধতার সমাধানে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ‘স্পঞ্জ সিটি’