অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি প্রসূতি রোগীরা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি প্রসূতি রোগীরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 5, 2026 ইং
অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কাছে  জিম্মি প্রসূতি রোগীরা ছবির ক্যাপশন:
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসব সেবা নিয়ে ডাক্তার ও নার্সদের একটি ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ডেলিভারি চেকআপের জন্য ৪২৮ জন রোগী হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ভর্তি হন ৫১ জন এবং ডেলিভারি সম্পন্ন হয় ৩২ জনের, যার মধ্যে ৩টি ছিল সিজারিয়ান।
ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৩৭ জন রোগী চেকআপ করালেও ডেলিভারি হয় মাত্র ৩৬ জনের—এর মধ্যে ৩৩টি নরমাল এবং ৩টি সিজারিয়ান। অভিযোগ রয়েছে, বাকি রোগীদের একটি বড় অংশকে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে।
মার্চ মাসে ৩৯৯ জন রোগী চেকআপে এলেও নরমাল ডেলিভারি হয় ৩২ জনের এবং সিজারিয়ান হয় মাত্র ২ জনের।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, হাসপাতালে আসা প্রসূতি রোগীদের নানাভাবে প্রভাবিত করে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য করা হয়। কিছু চিকিৎসক ও নার্স পার্শ্ববর্তী বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগসাজশে রোগী পাঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পেছনে কমিশন বাণিজ্য জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ ওইসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার বলেও জানা গেছে।
হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটি একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট, যারা পরিকল্পিতভাবে রোগীদের বাইরে পাঠাচ্ছে। এদের অনেকেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এই সিন্ডিকেটের কারণে অন্যরাও নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।”
ইতিমধ্যে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডা. প্রবাল চক্রবর্তীর নেতৃত্বে কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট কমিটি (QIC) টিম থাকলেও ডেলিভারির সংখ্যা কম হওয়ায় নতুন টিম গঠন করা হয়েছে।
কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট কমিটি (QIC)-এর সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নরমাল ডেলিভারি টিমের প্রধান শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সেবার মান উন্নয়নে কাজ চলছে। প্রসূতি রোগীরা নিশ্চিন্তে আমাদের হাসপাতালে সেবা নিতে পারেন। আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। হাসপাতালে যাতে ডেলিভারির সংখ্যা যাতে বাড়ানো যায়, সে লক্ষ্যে কাজ করছি।”
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব জানান, “ হাসপাতালে ডেলিভারি সংখ্যা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছি।”

নিউজটি পোস্ট করেছেন : আখতারুজ্জামান ফাহিম

কমেন্ট বক্স
সিগারেট প্যাকেটে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে এনবিআর

সিগারেট প্যাকেটে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে এনবিআর