ডায়াবেটিস থাকলেও কি আম খাওয়া যাবে? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ডায়াবেটিস থাকলেও কি আম খাওয়া যাবে?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 12, 2026 ইং
ডায়াবেটিস থাকলেও কি আম খাওয়া যাবে? ছবির ক্যাপশন: ডায়াবেটিস থাকলেও কি আম খাওয়া যাবে?

গ্রীষ্মকাল মানেই ফলের মৌসুম, আর এই সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পাকা আম। সুস্বাদু এই ফলটি অনেকের প্রিয় হলেও ডায়াবেটিস রোগী এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এটি নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কারণ আমে প্রাকৃতিক শর্করা বেশি থাকায় এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে।

একটি মাঝারি সাইজের আমে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ ক্যালোরি এবং প্রায় ৪৫ গ্রাম শর্করা থাকতে পারে। তাই পরিমাণ না মেনে বেশি আম খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ওজনও বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে ডায়াবেটিস থাকা সত্ত্বেও আম উপভোগ করা সম্ভব।

প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে একটির বেশি মাঝারি সাইজের আম খাওয়া উচিত নয়। এর বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত শর্করা প্রবেশ করে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণই নিরাপদ।

দ্বিতীয়ত, আম খাওয়ার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। আমের জুস, ম্যাঙ্গো শেক বা বিভিন্ন ডেজার্ট আকারে খেলে এতে থাকা ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শরীরে সুগার দ্রুত শোষিত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই আম সবসময় ফল হিসেবে কামড়ে বা টুকরো করে খাওয়া সবচেয়ে ভালো।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময় ভাগ করে খাওয়া। পুরো একটি আম একসাথে না খেয়ে সেটিকে সকাল ও বিকেলের মধ্যে ভাগ করে খেলে শরীরে শর্করার চাপ একবারে পড়ে না। এতে রক্তে সুগার ধীরে ধীরে বাড়ে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

খাওয়ার সময়ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, রাতে ঘুমানোর আগে আম না খাওয়াই ভালো। দিনের বেলায় বিশেষ করে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে আম খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ, কারণ তখন শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় থাকে।

এছাড়া অন্য খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে আম খাওয়াও উপকারী হতে পারে। যেমন আমের সঙ্গে দুটো আটার রুটি, কিছু বাদাম বা স্প্রাউট (অঙ্কুরিত ছোলা-মুগ) খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত না বেড়ে ধীরে ধীরে ছড়ায়। এতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের প্রভাব কিছুটা কমে আসে এবং শরীরের ওপর চাপ কম পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আম পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং সঠিক নিয়ম মেনে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিমাণ, সময় এবং খাবারের সংমিশ্রণ ঠিক রাখতে পারলে ডায়াবেটিস রোগীরাও গ্রীষ্মের এই জনপ্রিয় ফলটি উপভোগ করতে পারেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, আম খাওয়া নিয়ে ভয় নয়, বরং সচেতনতা জরুরি। নিয়ম মেনে খেলে এই মৌসুমী ফলটি স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে আনন্দ ও পুষ্টি দুটোই দিতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
অভয়নগরে গৃহবধূর ওপর এসিড হামলা, স্বামীসহ আটক

অভয়নগরে গৃহবধূর ওপর এসিড হামলা, স্বামীসহ আটক