বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা Ruhul Kabir Rizvi বলেছেন, “আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। কিন্তু বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করলে এভাবে ভালো সম্পর্ক সম্ভব নয়।”
রবিবার (১০ মে) Institution of Diploma Engineers Bangladesh (আইডিইবি)-এর ৪৫তম জাতীয় কাউন্সিল ২০২৬ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ভারতের নির্বাচন তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে সীমান্তে বাংলাদেশিদের ওপর গুলি চালানো এবং প্রাণহানির ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “বারবার সীমান্তে কেন বাংলাদেশিদের গুলি করা হবে? সীমান্তে রক্তপাত কবে বন্ধ হবে?”
তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত এলাকায় দুই বাংলাদেশিকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভীর মতে, শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের সাধারণ মানুষও সীমান্তে সহিংসতা চায় না। তিনি বলেন, স্থায়ী ও সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে দিল্লিকে সহিংস মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতীয় অগ্রগতিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের পেশাকে অবমূল্যায়নের সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনে যারা ভূমিকা রাখেন, নির্বাচিত সরকার তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। এ সময় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রিজভী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে নিরলস পরিশ্রম করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের “ফাঁপা প্রতিশ্রুতি” দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি অতীত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে বলেন, “১০ টাকা কেজি চাল” কিংবা “ঘরে ঘরে চাকরি” ধরনের প্রতিশ্রুতি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল ছিল।
রিজভী আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, তার দেখানো পথ অনুসরণ করেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ খাদ্যে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি Singapore-এর উন্নয়নের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত হত্যা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে এই বিষয়টি প্রায়ই গুরুত্ব পেয়ে থাকে।
সব মিলিয়ে, রিজভীর বক্তব্যে একদিকে যেমন সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক আচরণের দাবি উঠে এসেছে, অন্যদিকে সরকারের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও বার্তা দেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক