৩৫ পেরোলেই কমতে শুরু করে শরীরের ফিটনেস, বলছেন বিজ্ঞানীরা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

৩৫ পেরোলেই কমতে শুরু করে শরীরের ফিটনেস, বলছেন বিজ্ঞানীরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 9, 2026 ইং
৩৫ পেরোলেই কমতে শুরু করে শরীরের ফিটনেস, বলছেন বিজ্ঞানীরা ছবির ক্যাপশন:

তারুণ্যে মানুষের শরীর সাধারণত বেশি শক্তিশালী, কর্মক্ষম ও ফিট থাকে। নিয়মিত চলাফেরা, দ্রুত শক্তি ফিরে পাওয়া এবং পেশির সক্ষমতা তরুণ বয়সে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল—ঠিক কোন বয়স থেকে শরীরের ফিটনেস ও পেশিশক্তি কমতে শুরু করে? এবার এ বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন সুইডেনের একদল গবেষক।

দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় তারা জানিয়েছেন, ৩৫ বছর বয়স পার হওয়ার পর থেকেই শরীরের ফিটনেস, পেশিশক্তি ও শারীরিক সক্ষমতায় ধীরে ধীরে অবনতি শুরু হতে পারে। গবেষণাটিকে বয়সজনিত শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গবেষণাটিতে কয়েক শ’ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তাদের স্বাস্থ্য ও শারীরিক সক্ষমতা প্রায় ৪৭ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের বয়ঃসন্ধিকাল থেকে শুরু করে ৬৩ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ফিটনেস, পেশিশক্তি, শারীরিক সহনশীলতা এবং মাসলের আকার ও কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, আগের বেশিরভাগ গবেষণায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হলেও একই ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করা হয়নি। কিন্তু এই গবেষণায় একই ব্যক্তিদের ওপর প্রায় পাঁচ দশক ধরে একই ধরনের মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা ফলাফলকে আরও নির্ভরযোগ্য করেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৫ বছর বয়সের পর থেকেই শরীরের শারীরিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। এমনকি যারা তরুণ বয়সে নিয়মিত ব্যায়াম করতেন বা ক্রীড়াচর্চায় সক্রিয় ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রেও বয়সের সঙ্গে কিছুটা অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই পরিবর্তন একেবারে হঠাৎ নয়; বরং ধীরগতিতে শুরু হয়ে সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে পেশির ভর কমে যাওয়া, বিপাকক্রিয়ার গতি হ্রাস পাওয়া এবং শারীরিক পুনরুদ্ধার ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবে ঘটে। এ কারণেই অনেক মানুষ বয়স বাড়ার সঙ্গে দ্রুত ক্লান্তি অনুভব করেন বা আগের মতো কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন না।

তবে গবেষণায় একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক সক্রিয়তা বয়সজনিত এই অবনতির গতি অনেকটাই ধীর করতে পারে। অর্থাৎ, ৩৫ বছর পার হওয়ার পরও শরীরচর্চা শুরু করলে তার উপকার পাওয়া সম্ভব।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক সক্রিয়তা পুরোপুরি বয়সের প্রভাব থামাতে না পারলেও তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত হাঁটা, হালকা দৌড়, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং দৈনন্দিন শরীরচর্চা পেশিশক্তি ও ফিটনেস ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

তারা আরও বলেন, সুস্থ জীবনযাপন, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও বয়সজনিত শারীরিক পরিবর্তন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শুধু বয়সের কারণে শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সচেতন জীবনধারা অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় ফিট থাকা সম্ভব করে।

গবেষণাটি এখনো চলমান রয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও কয়েক বছর পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও গভীর তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল Cachexia, Sarcopenia and Muscle-এ প্রকাশিত এই গবেষণা বয়স ও ফিটনেস নিয়ে মানুষের প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে উৎসাহ দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়লেও নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম ও সুস্থ থাকার অন্যতম প্রধান উপায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের শোকবার্তা

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের শোকবার্তা