জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টায় জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শিপন (১৯), ইব্রাহীম (২৫) এবং ইউসুফ আলী (২০)। তাদের সবার বাড়ি ইসলামপুর উপজেলার বেলাগাছা ইউনিয়নের শিলদহ এলাকায়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল এক স্কুলছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে গিয়ে এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং দীর্ঘ শুনানির মাধ্যমে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়।
দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অর্থদণ্ডের টাকা আদায় হলে তা ভুক্তভোগীর পরিবারকে প্রদান করা হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, মামলাটিতে মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত নিশ্চিত হন যে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছে। এজন্য কঠোর শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এ রায়কে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অনেকে আদালতের সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এ ধরনের কঠোর শাস্তি সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। তারা আশা করছেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন দুঃসহ ঘটনার শিকার হতে হবে না।
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ধর্ষণসহ গুরুতর অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই রায় সেই আইনের প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে এ ধরনের মামলায় কঠোর রায় দেওয়া হলে সমাজে একটি শক্তিশালী বার্তা যায় যে অপরাধ করলে শাস্তি নিশ্চিত।
সব মিলিয়ে জামালপুরের এই রায় স্থানীয়ভাবে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।
কসমিক ডেস্ক