চরম ব্যক্তিগত সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। পারিবারিক বিচ্ছেদ, সন্তানদের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াই এবং এক সন্তানকে হারানোর শোক—সব মিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করেন সেলিনা জেটলি, যেখানে তাকে অস্ট্রিয়ায় নিজের মৃত সন্তান শামশেরের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই তা নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি জায়গাটি পরিষ্কার করছেন এবং গভীর আবেগে ভেঙে পড়ছেন। সন্তানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
সেলিনা জানান, তার স্বামী পিটার হাগ বর্তমানে তার অন্য সন্তানদের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দিচ্ছেন না। সন্তানরা কোথায় আছে, সেটিও তিনি জানেন না বলে দাবি করেন এই অভিনেত্রী। বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
২০১১ সালে অস্ট্রিয়ার ব্যবসায়ী পিটার হাগের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সেলিনা জেটলি। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন সন্তান ছিল। এর মধ্যে শামশের নামের এক সন্তান কিছুদিন আগে মারা যায়, যা তার জীবনে গভীর শোকের সৃষ্টি করে।
ভিডিওতে আবেগঘন বার্তায় সেলিনা বলেন, তিনি নিজের দেশ, পরিবার, বাবা-মা এবং ক্যারিয়ার সবকিছু ছেড়ে পরিবারকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। দুবাই, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রিয়ার মতো বিভিন্ন দেশে তিনি কেবল পরিবারের সঙ্গে থাকার জন্য বসবাস করেছেন।
কিন্তু তার ভাষায়, এই ত্যাগের বিনিময়ে তিনি পেয়েছেন মানসিক যন্ত্রণা ও নির্যাতন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন।
এর আগে গত বছর তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতার অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হন। বর্তমানে তাদের সন্তানদের অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও সেলিনা জেটলি জানিয়েছেন, তিনি লড়াই থামাবেন না। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার জন্য এবং নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
অভিনেত্রীর এই ভিডিও প্রকাশের পর ভক্ত ও অনুরাগীরা সামাজিক মাধ্যমে তার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং পারিবারিক সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়েও একটি বড় বার্তা।
সব মিলিয়ে সেলিনা জেটলির এই আবেগঘন মুহূর্ত এবং পারিবারিক সংকট এখন নেটদুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক