ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
বুধবার (৬ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
মামলার নথি অনুযায়ী, মনিরা শারমিন রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। গত বছর ডিসেম্বরে তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সরকারি চাকরি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে বা সেখান থেকে পদত্যাগ করলে, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করার বিধান রয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ১২(১)(চ) ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি সরকারি চাকরি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণ করলে তার সেই তারিখ থেকে তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
এই আইনগত বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে গত ২৩ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে তিনি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।
তবে শুনানি শেষে গত ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন তার আপিল খারিজ করে দেয়। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
এর আগে ৪ মে রিটটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ। পরে বিষয়টি বর্তমান বেঞ্চে উপস্থাপন করা হলে প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করা হয়।
আইনজীবীদের মতে, মামলাটির মূল প্রশ্ন হলো—মনিরা শারমিনের পদত্যাগ ও মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না এবং তিন বছরের বিধান তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল, প্রচলিত আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী তার প্রার্থিতা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ নির্ধারিত সময়সীমা পূরণ হয়নি।
এ ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি এখন হাইকোর্টের চূড়ান্ত রুলের ওপর নির্ভর করছে।
সব মিলিয়ে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা ঘিরে এই মামলা দেশের নির্বাচনী আইন ও যোগ্যতা নির্ধারণের ব্যাখ্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক