পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থনমূলক বক্তব্য দেওয়ার কারণে যেমন তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন, তেমনি নির্বাচনের পর তার নতুন মন্তব্য আবারও রাজনৈতিক মহলে চর্চার জন্ম দিয়েছে।
সদ্য শেষ হওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেননি, তবে নির্বাচনী মঞ্চে তৃণমূলের হয়ে বক্তব্য রাখতে দেখা গিয়েছিল তাকে। সেই সময় তার বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক বিতর্কও তৈরি হয়।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের পর তিনি সংবাদমাধ্যমে খোলামেলা মতামত দেন। সেখানে তিনি জানান, তৃণমূলের কিছু ভালো কাজ থাকলেও, দলের কিছু নেতাকর্মীর আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।
তার ভাষায়, জনসাধারণের মধ্যে যে রাগ ও অসন্তোষ ছিল, তা অস্বাভাবিক নয়। কিছু নেতার আচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূল সরকারের ইতিবাচক কাজগুলোকে আড়াল করে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সদস্য নন। বরং একজন নাগরিক হিসেবে তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচনের আগে তৃণমূলের পক্ষে প্রচারে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পরমব্রত বলেন, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি তার কাছে অসাংবিধানিক মনে হয়েছিল। গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে তিনি সেই সময় প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তৃণমূলের মঞ্চে গিয়েছিলেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, সেই সময় রাজ্যের রাজনৈতিক বিকল্প শক্তিগুলো দুর্বল অবস্থানে ছিল। ফলে প্রতিবাদের জায়গা থেকে তিনি ওই অবস্থান নিয়েছিলেন। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে সিনেমা শিল্প কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, যারা চলচ্চিত্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। এতে শিল্পের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পরমব্রত বলেন, এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধেই তিনি ও আরও অনেকে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে গেলে এবং নানা বাধার মুখে পড়তে হলে তিনি কিছুটা দূরে সরে আসেন।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ওপর দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে এবং এর ফলে ‘ব্যান কালচার’ তৈরি হয়েছে, যা শিল্পীদের জন্য সমস্যা তৈরি করেছে।
তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও তিনি স্পষ্ট করেন যে, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সম্মান বজায় রাখেন। তার মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সম্মান আলাদা বিষয়।
সব মিলিয়ে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য নতুন করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও টলিউডের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে তার অবস্থান এবং পরে তার বক্তব্য—দুটোই এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ হয়ে উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক