চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের দাপ্তরিক কার্যক্রম নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নগরীর আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে পরিচালিত হবে। নতুন ভবন নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থায়ী ব্যবস্থায় কার্যক্রম চলবে।
চুক্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নির্ধারিত অংশ ব্যবহার করবে। এই ভবনটির মালিক চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। সম্প্রতি উভয় পক্ষের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহার হোসেন এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন। এ সময় তারা যৌথভাবে নতুন এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন।
চুক্তি অনুযায়ী, কাস্টম হাউস ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ বর্গফুট অফিস স্পেস এবং ৮ হাজার বর্গফুট গ্যারেজ স্পেস ব্যবহার করবে। এটি একটি বড় পরিসরের স্থানান্তর, যা কাস্টম হাউসের কার্যক্রম আরও আধুনিক ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনায় সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চেম্বার সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারটি আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক স্থাপনা। এটি নিউইয়র্কভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। প্রায় সাত লাখ বর্গফুট আয়তনের ২৪ তলা এই ভবনটি আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত।
এই ভবনে রয়েছে ১৪টি লিফট, ৩টি বেইজমেন্ট, ২৫০টি গাড়ি পার্কিং সুবিধা এবং হেলিপ্যাড। এসব সুবিধার কারণে এটি দেশের অন্যতম আধুনিক বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও থাইল্যান্ডের অনারারি কনসাল আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের প্রতিনিধি শেখ আবু ফয়সল মো. মুরাদ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম সাইফুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভবনে স্থানান্তরের মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও দ্রুত, আধুনিক এবং সেবামুখী হবে। পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয়ও আরও সহজ হবে।
চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বাণিজ্যিক ও আমদানি-রপ্তানি কেন্দ্র হওয়ায় কাস্টম হাউসের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আধুনিক অবকাঠামোতে স্থানান্তরকে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থানান্তরের ফলে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসায়ীদের সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক