প্রায় আড়াই মাসের বিরতির পর দেশে আবারও আসছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) চালান, যা দেশের জ্বালানি খাতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে। এই চালান পৌঁছানোর মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে যাচ্ছে Eastern Refinery Limited (ইআরএল), যা দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার।
জানা গেছে, প্রায় ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা করা অয়েল ট্যাংকার ‘এমটি নিনেমিয়া’ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। জাহাজটি পৌঁছানোর পরপরই তেল খালাসের কার্যক্রম শুরু হবে।
এই ক্রুড অয়েল ইআরএলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাঁচামালের অভাবে গত ১২ এপ্রিল রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে দেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল।
তবে নতুন চালান পৌঁছালে আগামী ৭ বা ৮ মে থেকে রিফাইনারিটি আবার চালু করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বন্দর সূত্র জানায়, এই তেল খালাসের জন্য লাইটারিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ, বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তর করে তা রিফাইনারিতে নেওয়া হবে।
এদিকে, উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে আরও ২ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি চালান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে এবং আরেকটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, এমটি নিনেমিয়া কুতুবদিয়া বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর দ্রুত খালাস কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান, মে মাসের মাঝামাঝি ও শেষ নাগাদ আরও কয়েকটি জাহাজে ক্রুড অয়েল দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে বাংলাদেশেও ক্রুড অয়েল আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
সর্বশেষ চালানটি দেশে আসে ১৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর দীর্ঘ সময় কোনো চালান আসেনি। এতে করে ইআরএলের উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ পড়ে।
ইআরএলের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ খান জানান, নতুন চালান পৌঁছানোর পর দ্রুত প্ল্যান্ট চালু করা হবে। বর্তমানে কাঁচামালের অভাবে চারটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি বন্ধ রয়েছে।
জানা যায়, ইআরএলে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি ও বিভিন্ন উপজাত উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ডিজেলের অংশ প্রায় ৪৫ শতাংশ।
দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশের কিছুটা কম জোগান দেয় এই রিফাইনারি। ফলে এর উৎপাদন বন্ধ থাকলে পুরো জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হয়।
সব মিলিয়ে, নতুন ক্রুড অয়েল চালান আসার ফলে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়া দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক