জ্বালানি তেল সরবরাহে অনিয়ম ও ভোক্তা প্রতারণার অভিযোগে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে প্রমাণিত হয়, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল গ্রাহকদের, যার ফলে ওই ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে Sakhipur Upazila-এর বোয়ালী এলাকায় অবস্থিত মেসার্স সখীপুর ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সরকারি পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল। অভিযানের সময় মাপে তেল কম দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি প্রমাণিত হয়।
পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রতি ৫ লিটার তেলে প্রায় ২৭০ গ্রাম এবং ১০ লিটারে প্রায় ৫৪২ গ্রাম তেল কম দেওয়া হচ্ছিল। এই অনিয়ম ধরা পড়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে ফিলিং স্টেশনের মালিক রাজু আহমেদ এবং মো. রফিকুল ইসলাম জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের অনিয়ম সরাসরি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। সরকার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম জ্বালানি সরবরাহ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, নিয়মিত মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় গ্রাহকেরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ করছিলেন যে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম তেল দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, টাকা অনুযায়ী ফুয়েল মিটারে সঠিক পরিমাণ তেল দেখা যেত না। তবে আগে কেউ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
অভিযানে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। তারা দাবি করেন, শুধু এই একটি নয়, এলাকার অন্যান্য ফিলিং স্টেশনেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান চালানো প্রয়োজন। এতে সাধারণ ভোক্তারা ন্যায্য সেবা পাবেন এবং অনিয়ম কমবে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অনিয়ম হলে তা সরাসরি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়। তাই নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে, টাঙ্গাইলের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে নজরদারি বাড়লে ভোক্তা প্রতারণা ধরা সম্ভব হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
কসমিক ডেস্ক