দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন এক পরিবর্তনের ধারা শুরু করেছে উইটন ইন্টারন্যাশনাল ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বের হয়ে এই দুই প্রতিষ্ঠান তাদের পাঠ্যক্রমে যুক্ত করেছে অ্যাবাকাস ও মেন্টাল ম্যাথ (মানসাঙ্ক) শিক্ষা ব্যবস্থা।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু সাধারণ গণিত শিখছে না, বরং দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা, বিশ্লেষণ দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা অর্জন করছে।
বর্তমান বিশ্বে গণিতকে শুধু একটি বিষয় হিসেবে দেখা হয় না, বরং এটি চিন্তাশক্তি ও যুক্তিবোধ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে স্কুল দুটি তাদের শিক্ষা কাঠামোকে আরও দক্ষতাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী করেছে।
অ্যাবাকাস ও মেন্টাল ম্যাথ চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা, স্মৃতিশক্তি এবং পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তারা মনে করে, ছোটবেলা থেকেই এমন প্রশিক্ষণ শিশুদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে সাধারণত অ্যাবাকাস বা মেন্টাল ম্যাথ শেখার জন্য আলাদা কোচিং বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রয়োজন হয়। তবে এই দুই স্কুলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। এতে অভিভাবকদের অতিরিক্ত খরচ ও সময়ের চাপ কমছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান দুটি আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটিয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি হিফজুল কুরআন প্রোগ্রাম ও আরবি ভাষা শিক্ষার সুযোগও রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের জন্য বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। ক্যাম্পিং, পাবলিক স্পিকিং, লিডারশিপ ট্রেনিংসহ নানা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বগুণ বাড়াতে সহায়তা করছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। তারা মনে করেন, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত করবে।
প্রতিষ্ঠান দুটির অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ জামান বলেন, গণিত শুধু সূত্র মুখস্থ করার বিষয় নয়, এটি একটি চিন্তার প্রক্রিয়া। তাদের লক্ষ্য এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করা, যারা যুক্তি ও বিশ্লেষণ দিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে।
এই উদ্যোগকে শিক্ষার আধুনিকায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।