যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে তার মরদেহবাহী বিমান ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অবতরণ করে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২ মে) রাতে Orlando International Airport থেকে Emirates-এর একটি ফ্লাইটে লিমনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। তার আগে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) Tampa Bay এলাকায় একটি ইসলামিক সোসাইটিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে University of South Florida-এর শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।
২৭ বছর বয়সী লিমন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। একই সময়ে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নামের আরেক তরুণী। তাদের খোঁজ না পেয়ে এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালে অনুসন্ধান শুরু হয় এবং পরে ঘটনাটি ভয়াবহ রূপ নেয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক Hisham Abugharebeh-কে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ। তাকে তার পারিবারিক বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৪ এপ্রিল Howard Frankland Bridge এলাকায় আবর্জনার ব্যাগের ভেতর থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং দেহে কোনো পোশাক ছিল না। ঘটনাটি অত্যন্ত নির্মম ও নৃশংস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে একই এলাকার একটি ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে আরও কিছু খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়, যা পরে নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বলে শনাক্ত করা হয়।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির দুটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কাছ থেকে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে এসেছে। স্বজনরা তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তারা আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।
প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এই ঘটনায়। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির জন্যই এক গভীর শোকের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। লিমনের মতো মেধাবী একজন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু দেশকে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত করল বলেও অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
কসমিক ডেস্ক