লোকগানের আত্মা ও মালিকানা নিয়ে কুদ্দুস বয়াতির মন্তব্য The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

লোকগানের আত্মা ও মালিকানা নিয়ে কুদ্দুস বয়াতির মন্তব্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 2, 2026 ইং
লোকগানের আত্মা ও মালিকানা নিয়ে কুদ্দুস বয়াতির মন্তব্য ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশের লোকসংগীতের অন্যতম জীবন্ত কিংবদন্তি কুদ্দুস বয়াতি সম্প্রতি তার সংগীত জীবন, লোকসুরের শেকড় এবং সৃজনশীলতার দর্শন নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন, লোকগান কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার, যেখানে শিল্পীর আত্মা গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে।

কুদ্দুস বয়াতি বলেন, লোকজ সুর কখনোই কোনো ব্যক্তির একক সম্পত্তি নয়। তবে একজন শিল্পী যখন এই সুর নিয়ে কাজ করেন, তখন তার অনুভূতি ও আত্মা সেই সৃষ্টির সঙ্গে মিশে যায়। তিনি বলেন, “কেউ যদি আমার সুর ভেঙে নতুন কিছু তৈরি করে, তবুও তার মধ্যে আমার আত্মার ছাপ থেকেই যায়।”

তার মতে, লোকগানের মূল সৌন্দর্য এর শেকড় ও আবেগে। এই সুরগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়ে এসেছে, তাই এগুলোকে আলাদা করে কোনো ব্যক্তির নামে সীমাবদ্ধ করা যায় না।

নিজের জনপ্রিয় গান ‘লিচুরও বাগানে’ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি আসলে একটি প্রাচীন ঘেটু গানের অনুপ্রেরণায় তৈরি। তার পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে ঘেটু গান চর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বিশেষ করে তার বাবা ছিলেন একজন পরিচিত ঘেটু গায়ক এবং বাইন বা ওস্তাদ। সেই ঐতিহ্যই তার সংগীত জীবনের ভিত তৈরি করেছে।

তিনি আরও স্মরণ করেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ-এর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ চলচ্চিত্রে গানটি নিয়ে কাজ করার সময় হুমায়ূন আহমেদ নিজেই তাকে দিয়ে গানটি লিখিয়েছিলেন এবং সুরের ভাবনাটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তার সংগীত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হয়ে আছে।

গানের কয়েকটি লাইন—

“ছোট ছোট লিচু গুলি তুমিও তোলো আমিও তুলি
তুমি দাও আমার মুখে আমি দিই তোমার মুখে
কে দিল পিরিতের বেড়া লিচুরও বাগানে”

এই সহজ ও গ্রামীণ ভাষার মধ্য দিয়ে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন বাংলার চিরায়ত প্রেম ও আবেগ। লোকজ জীবনের সরলতা, ভালোবাসা এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এখানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

কুদ্দুস বয়াতি আরও বলেন, লোকসংগীত হলো সমষ্টিগত সম্পদ। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। তবে এর আদি রূপ, আবেগ এবং পূর্বপুরুষদের দরদ যেন হারিয়ে না যায়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি বর্তমান সময়ে লোকগানের পরিবর্তন ও সুরের বিকৃতি নিয়েও ইঙ্গিত দেন। তার মতে, নতুন প্রজন্ম যখন লোকসুর নিয়ে কাজ করে, তখন যদি তার মূল আত্মা হারিয়ে যায়, তবে সেই সৃষ্টিতে প্রকৃত লোকসংগীতের স্বাদ থাকে না।

সবশেষে তিনি বলেন, লোকগান বাঙালির প্রাণের অংশ। এই সুর বাঁচিয়ে রাখতে হলে এর শেকড়কে সম্মান করতে হবে এবং নতুন সৃষ্টিতে সেই আত্মাকে ধারণ করতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ইডি ইস্যুতে তৃণমূলের মামলায় হাইকোর্টের না সূচক রায়

ইডি ইস্যুতে তৃণমূলের মামলায় হাইকোর্টের না সূচক রায়