যশোরের অভয়নগরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা রুহুল আমিন (৩৮) এবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (২ মে) দুপুরে নওয়াপাড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি তিনি বক্তব্য না দিয়ে তার বড় বোন রওশনারা পারভীন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি জানান, তাদের ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এ কারণে তার বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যাসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক দিক থেকে দুর্বল অবস্থায় পড়ে যান রুহুল আমিন। এ সময় স্থানীয় এক মাদক ব্যবসায়ীর প্ররোচনায় তিনি মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, যা তার জীবনকে আরও জটিল করে তোলে।
রওশনারা পারভীন বলেন, এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রুহুল আমিন প্রশাসন ও সমাজের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি আর কখনো মাদক বা কোনো ধরনের অপরাধে জড়াবেন না। ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে নিজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক মহল তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল আমিন নিজেও নিজের অতীত ভুল স্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিভাবকহীন পরিবেশে বড় হওয়া এবং ভুল মানুষের সংস্পর্শে আসার কারণে তিনি অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তিনি লেখাপড়া জানেন না বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এখন তিনি নিজের পরিবার নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। এজন্য তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তার দাবি, তিনি অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চান।
বর্তমানে রুহুল আমিন নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানানো হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে তার অতীত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা মনে করেন, মাদক থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার আগে তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার সঠিক বিচার প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকা উচিত।
সব মিলিয়ে রুহুল আমিনের এই ঘোষণা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং তার ভবিষ্যৎ সামাজিক অবস্থান এখন সময়ের ওপর নির্ভর করছে।
কসমিক ডেস্ক