মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah এবার দফায় দফায় রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে Israel-এর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও বসতিতে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তারা ইসরায়েলের মিসগাভ আম বসতি, কাফার গিলাদি অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি এবং জারিট ব্যারাককে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে এই হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এটি ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক লেবানন অভিযান ও সীমান্ত হামলার জবাব।
স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Al Jazeera জানায়, এসব হামলায় একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, তারা শুধু একটি বা দুটি নয়, বরং একাধিক দফায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা শহর এবং ডোভিভ বসতিতে রকেট ব্যারেজ নিক্ষেপ করা হয়। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবানন অঞ্চলে ৪৩টি পৃথক হামলা পরিচালনা করেছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ রকেট প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইতোমধ্যেই গাজা যুদ্ধ ও লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে অঞ্চলটি অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এখন হিজবুল্লাহর এই ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করছে, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে বারবার হামলা চালাচ্ছে, যার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সংঘাত এখন আর শুধু সীমান্তভিত্তিক নেই, বরং এটি আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
কসমিক ডেস্ক