ঝিনাইদহে হাজারো কৃষকের ঋণ মওকুফ, স্বস্তিতে কৃষকরা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঝিনাইদহে হাজারো কৃষকের ঋণ মওকুফ, স্বস্তিতে কৃষকরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 12, 2026 ইং
ঝিনাইদহে হাজারো কৃষকের ঋণ মওকুফ, স্বস্তিতে কৃষকরা ছবির ক্যাপশন:

ঝিনাইদহ জেলায় কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তির খবর এসেছে। জেলার ছয়টি উপজেলার মোট ৪ হাজার ৫৫১ জন কৃষকের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রায়িত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। ঝিনাইদহে প্রধান তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, সুবিধাভোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের। এই ব্যাংকের অধীনে ৪ হাজার ২৩০ জন কৃষকের ৩ কোটি ২৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক ২৯০ জন কৃষকের ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা এবং জনতা ব্যাংক ৩১ জন কৃষকের ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকার ঋণ মওকুফ করেছে।

এই সিদ্ধান্তে জেলার প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঋণের বোঝা নিয়ে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া অনেক কৃষক এখন নতুন করে কৃষিকাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

শৈলকুপার দুধসর এলাকার কৃষক গোলাম নবী বলেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ছোট অঙ্কের এই ঋণ পরিশোধ করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। ঋণ মওকুফের ফলে তিনি এখন দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে আবার চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন বলে জানান।

অন্যদিকে সদর উপজেলার চাপড়ী গ্রামের কৃষক আজগর আলী বলেন, কৃষিঋণ মওকুফ হওয়ায় এলাকার কৃষকদের মধ্যে স্বস্তির হাওয়া বইছে। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের চাপ কমে যাওয়ায় কৃষকেরা এখন নতুন উদ্যমে মাঠে কাজ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঝিনাইদহ শাখার উপমহাব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান বলেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। এতে প্রান্তিক কৃষকদের মনোবল বৃদ্ধি পাবে এবং তারা কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত হবেন। ব্যাংকগুলো দ্রুত এই সুবিধা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ বলেন, এটি একটি কৃষিবান্ধব ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। তার মতে, এই ঋণ মওকুফের ফলে ঝিনাইদহের হাজারো কৃষকের পরিবারে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে।

সব মিলিয়ে এই ঋণ মওকুফ কর্মসূচি ঝিনাইদহের কৃষি খাতে নতুন গতি এবং কৃষকদের জীবনে স্বস্তি নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিদেশে চাকরির সুযোগ বাড়াতে ৬০ হাজার চালকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচ

বিদেশে চাকরির সুযোগ বাড়াতে ৬০ হাজার চালকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচ