ভোলার দৌলতখান উপজেলায় দোকানঘরের মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জুমার নামাজের আগে উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের মিয়ার হাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একটি দোকানঘরকে কেন্দ্র করে শাখাওয়াত হোসেন ও ফরিদ গংয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই দোকানঘরে শাখাওয়াত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে ফরিদ পক্ষ দাবি করে আসছে, দোকানঘরটি তাদের মালিকানাধীন। এই মালিকানা বিরোধ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এর ফলে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে।
ঘটনার দিন সকালে শাখাওয়াত হোসেন দোকানঘরে সংস্কার কাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষ ফরিদ গং বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয় বাজারে শত শত মানুষের উপস্থিতিতেই দা, লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালায়।
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন, রাজিব, নাজিম ও শহিদুলসহ কয়েকজন রয়েছেন। আহতদের ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়রা পরে হস্তক্ষেপ করলে সংঘর্ষ কিছুটা শান্ত হয়।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ ফরিদ গংয়ের পক্ষ দাবি করে, শাখাওয়াত হোসেন দোকানঘরটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। বর্তমানে তিনি সেটিকে নিজের মালিকানা দাবি করছেন, যা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাদের দাবি, তারা আইনগতভাবে বিষয়টি সমাধানের পথে ছিলেন, কিন্তু প্রতিপক্ষের আচরণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
দৌলতখান থানার পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনায় চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন সহিংস ঘটনা আর না ঘটে।
কসমিক ডেস্ক