আরব সাগরে বিপদগ্রস্ত একটি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে বাংলাদেশিসহ ১৮ জন নাবিককে সফলভাবে উদ্ধার করেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দেশটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাকিস্তান নৌবাহিনী জানায়, ‘এমভি গোল্ড অটাম’ নামের জাহাজটি উত্তর আরব সাগরে বিপদের মুখে পড়ে এবং সেখান থেকে জরুরি বিপদ সংকেত পাঠানো হয়। সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়, যা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
এই অভিযানে বাংলাদেশসহ চীন, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার মোট ১৮ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিয়ে গঠিত এই ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করে পাকিস্তানের নৌ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
উদ্ধার কার্যক্রমকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি। তারা দ্রুত তাদের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার সক্রিয় করে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব নেয়। পাশাপাশি পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস হুনাইন’ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়, যা সরাসরি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
উদ্ধারের পর নাবিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। জাহাজে আগুন লাগার বা অন্য কোনো ঝুঁকি থাকলে তা মোকাবেলায় অগ্নিনির্বাপন সহায়তাও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরে উদ্ধারকৃত নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানের করাচি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের পরবর্তী চিকিৎসা, বিশ্রাম এবং নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উত্তর আরব সাগর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সমুদ্রপথে দুর্ঘটনা ঘটলে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী নিকটবর্তী দেশের নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। পাকিস্তান নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক এই অভিযান সেই আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনেরই একটি উদাহরণ।
আরব সাগরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় পাকিস্তান নৌবাহিনীর অভিজ্ঞতা নতুন নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা একাধিক সফল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে বিপদগ্রস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ ও মাছ ধরার নৌকা থেকে বহু নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশের নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্যও অপরিহার্য।
কসমিক ডেস্ক