ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ছাত্রদলের একটি কমিটিকে ঘিরে জেন্ডার পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। এই ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রে থাকা Redowan Islam নিজেকে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ নয়, বরং ‘ছেলে’ হিসেবে দাবি করে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো ওই ভিডিও বার্তায় রেদোয়ান বলেন, তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো তথ্য গোপন করেননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমি ছেলে। আমাকে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ বলে যে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এতে আমার ও আমার পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।” একই সঙ্গে গুজব না ছড়ানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি এবং শান্তিপূর্ণভাবে নিজের মতো করে বাঁচার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
জানা যায়, কসবার সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়। সেখানে সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে রেদোয়ান ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই তার জেন্ডার পরিচয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব Samir Chakraborty জানান, কমিটি গঠনের আগে দেওয়া বায়োডাটায় রেদোয়ান নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
উল্লেখ্য, রেদোয়ান ইসলাম আগে দাবি করেছিলেন, তার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতেই তাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে জেন্ডার পরিচয় ঘিরে বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত তাকে পদ হারাতে হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা মতামত সামনে আসছে। কেউ রেদোয়ানের বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ সংগঠনের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে মনে করছেন। ফলে বিষয়টি এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক