দেশীয় প্রেক্ষাগৃহে টানা দর্শক সাড়া এবং বক্স অফিসে ধারাবাহিক সফলতার পর এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। গত শুক্রবার থেকে সিনেমাটির বিদেশে প্রদর্শন শুরু হয়েছে, যা নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথমে অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হলেও এবার আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছাচ্ছে সিনেমাটি। জানা গেছে, আগামী ৩ এপ্রিল থেকে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের মোট ৫২টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এর মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশ্বদর্শকের সামনে নতুনভাবে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে।
সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রু এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক থিয়েটারে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে কানাডায় ১০টি, যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮টি এবং যুক্তরাজ্যে ৪টি প্রেক্ষাগৃহে চলবে ছবিটি।
প্রেক্ষাগৃহের তালিকায় রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিভিন্ন চেইন। যুক্তরাষ্ট্রে এএমসি-তে ২১টি শো, রিগ্যালে ১৪টি, সিনেমার্কে ২টি এবং শোকেসে ১টি শো প্রদর্শিত হবে। অন্যদিকে কানাডার সিনেপ্লেক্সে ১৫টি এবং যুক্তরাজ্যের সিনে ওয়ার্ল্ডে ৪টি শো চলবে বলে জানা গেছে। এই বিস্তৃত প্রদর্শন পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারেও সিনেমাটিকে গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এর আগে একই নির্মাতা তানিম নূর পরিচালিত ‘উৎসব’ সিনেমাটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রদর্শিত হলেও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ পেয়েছে আরও বেশি প্রেক্ষাগৃহ। তথ্য অনুযায়ী, আগের সিনেমার তুলনায় ১৫টি বেশি থিয়েটার পেয়েছে নতুন এই চলচ্চিত্রটি। পাশাপাশি আগামী ১০ এপ্রিল লস অ্যাঞ্জেলেস, কানেক্টিকাট ও অস্টিনসহ আরও চারটি প্রেক্ষাগৃহ যুক্ত হওয়ার কথাও রয়েছে।
সিনেমাটির পরিচালক তানিম নূর দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দর্শকদের কাছ থেকে যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তা সত্যিই অভাবনীয়। দেশের বাইরে দর্শকদের সামনে ছবিটি তুলে ধরতে পারা তাদের জন্য আনন্দের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মূলত একটি ট্রেনযাত্রাকে কেন্দ্র করে নির্মিত। এই যাত্রাপথে বিভিন্ন যাত্রীর ব্যক্তিগত জীবন, তাদের অনুভূতি, সম্পর্ক এবং মানসিক টানাপোড়েন ফুটে উঠেছে গল্পে। প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব গল্প এবং অভিজ্ঞতা মিলিয়ে সিনেমাটি একটি বহুমাত্রিক আখ্যান তৈরি করেছে।
গল্পটি অনুপ্রাণিত হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস থেকে। সাহিত্য থেকে চলচ্চিত্রে রূপান্তরের এই প্রয়াস দর্শকদের কাছে নতুনভাবে পরিচিত গল্পকে তুলে ধরেছে। ফলে যারা উপন্যাসটি পড়েছেন, তাদের জন্য যেমন রয়েছে পরিচিতির আবেশ, তেমনি নতুন দর্শকদের জন্যও রয়েছে ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেতারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরিফুল রাজ, সাবিলা নূর এবং আজমেরী হক বাঁধনসহ আরও অনেকে। তাদের অভিনয় গল্পকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, দেশীয় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর এই আন্তর্জাতিক যাত্রা বাংলা সিনেমার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি কেবল একটি সিনেমার সাফল্য নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্রের বৈশ্বিক পরিসরে পৌঁছানোর একটি সম্ভাবনাময় দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।