ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গোপনে নিজ বাড়িতে ফিরে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগের এক নেতা। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই নেতাকে রাতের অভিযানে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার (২৫ মার্চ) গভীর রাতে সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের সিন্দিউরূ গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাত প্রায় ১টার দিকে পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর যৌথ দল ওই নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি মো. আলী আজম (৪৫), যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব মামলার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলী আজম ২৫ মার্চ গোপনে নিজ বাড়িতে আসেন। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আলী আজমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় তিনি পলাতক ছিলেন। গোপনে বাড়িতে ফেরার খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবির যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পরপরই আলী আজম অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে আবার থানায় নিয়ে আসা হয়।
পরবর্তীতে একই দিনে সকালে তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলী আজম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ করে গোপনে বাড়িতে ফেরার ঘটনায় এলাকাজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়। তার গ্রেপ্তারের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এদিকে, গ্রেপ্তারের সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুরো অভিযানটি পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর নিজ বাড়িতে ফিরে এসে গ্রেপ্তার হওয়ার এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কসমিক ডেস্ক