পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।
বুধবার (১৮ মার্চ) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি আগামী সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্কের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো ধরনের আন্তঃসীমান্ত হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটে, তাহলে তারা পুনরায় পূর্ণ শক্তিতে সামরিক অভিযান শুরু করবে।
পাকিস্তানের এই ঘোষণার পর আফগানিস্তানের তালেবান সরকারও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তাদের সামরিক অভিযান স্থগিত করার কথা জানিয়েছে।
তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং ঈদের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
গত কয়েক দিনে সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় দেশেরই উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষ করে কাবুলে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হামলার সময় কেন্দ্রটি নামাজরত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ ছিল, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
পাকিস্তান এই হামলার দায় অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা কেবল সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করেছে।
অন্যদিকে আফগান সরকার অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক ও চিকিৎসা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে কাবুলে নিহতদের স্মরণে বড় পরিসরে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
অনেক পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপে আহাজারি করেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি বলেন, তারা নিরীহ মানুষের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর হলেও সরকার যুদ্ধ চায় না।
তিনি কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানই তাদের লক্ষ্য।
এদিকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বেসামরিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ঈদকে ঘিরে এই সাময়িক শান্তি উদ্যোগ ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে—যদিও সীমান্তে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে উভয় দেশের সেনাবাহিনী।
কসমিক ডেস্ক