রাতের মধ্যে ইরানের ওপর ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’ পরিচালিত হবে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রাতের মধ্যে ইরানের ওপর ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’ পরিচালিত হবে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 7, 2026 ইং
রাতের মধ্যে ইরানের ওপর ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’ পরিচালিত হবে ছবির ক্যাপশন:

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শনিবার (৭ মার্চ) জানিয়েছেন, ইরানের ওপর এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় বোমাবর্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই অভিযান মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হবে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলায় ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ‘আমরা এই লক্ষ্যগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর করে দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাপকভাবে সীমিত হবে। এসময় বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার’ অভিযোগও তুলেছেন এবং হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের বড় হামলা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হওয়ায়, সেখানে যেকোনো সামরিক আঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। ফলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগে, ইরানের মেহেরবাদ বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার মাধ্যমে ইসরায়েলের ওপর পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে। এ অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন অভিযান আরও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বেসেন্টের এই ঘোষণা এমন সময় এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত এবং আন্তর্জাতিক নৌ পরিবহন সংস্থাগুলোকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশকে হুমকিসূচক সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ওপর এই হামলার ফলে শুধু সামরিক কেন্দ্রগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, এর প্রভাব অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও পড়তে পারে। বিশেষত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে যেসব দেশের জাহাজ চলাচল করে, তারা সরাসরি এই উত্তেজনার প্রভাবভোগী হতে পারে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, মার্কিন প্রশাসন পূর্বেই ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও কারখানাগুলোতে আঘাতের লক্ষ্য রাখা হয়েছে যাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করা যায়।

সংক্ষেপে, স্কট বেসেন্টের ঘোষণার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠেছে। শনিবার রাতে পরিকল্পিত এই ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’ মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন দফার সামরিক সংঘাতের সূচনা হতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও বিশ্ববাজারের তেলের সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জ্বালানি সংকটে সরকারি কর্মকর্তাদের লিফট ব্যবহার সীমিত করল থা

জ্বালানি সংকটে সরকারি কর্মকর্তাদের লিফট ব্যবহার সীমিত করল থা