গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান ড. সায়মা ফেরদৌসের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান ড. সায়মা ফেরদৌসের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 3, 2026 ইং
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান ড. সায়মা ফেরদৌসের ছবির ক্যাপশন:
ad728

ভোটারদের উদ্দেশে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ভোট দেওয়া মানে শুধু একটি ব্যালট দেওয়া নয়; এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার এবং জুলাইয়ের সাহস বহনের প্রতিফলন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা টাউনহল মাঠে ‘তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি মুক্ত আলোচনায় মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. সায়মা ফেরদৌস বলেন, গণতন্ত্র তখনই কার্যকর হয়, যখন ভোটাররা আবেগের পাশাপাশি সচেতনভাবে চিন্তা করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি নির্বাচন শুধু আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

ভোট দেওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ২০৪১ সালের বাংলাদেশ এবং তার পরের সময়ের কথা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলেন, যা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করবে, পাশাপাশি এমন কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, যা তরুণদের দেশে থেকেই ভবিষ্যৎ গড়তে উৎসাহিত করবে। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু সহনশীলতা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতির পরিচয়ের ক্ষেত্রে দুটি অধ্যায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। তার মতে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য যেমন মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তেমনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তরুণরা ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল। এই চেতনাই আজও তরুণ সমাজের মধ্যে জীবিত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে রাজনীতি করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় জনসংখ্যাগত শক্তি। তাই নীতি, দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ইশতেহার পড়া, উন্নয়ন পরিকল্পনা বোঝা এবং অগ্রাধিকার বিশ্লেষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ‘সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ সংগঠনের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ১৯৭১ সালের ধারাবাহিকতারই অংশ। তার মতে, ১৯৭১ স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, আর ২০২৪ সেই স্বাধীনতা রক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাকে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

মুক্ত আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা আবিদুল ইসলাম খান, রাকসুর এজিএস প্রার্থী জাহিন বিশ্বাস এশা ও কাজী শারমীন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম জয়: ২১ বছর আগের সেই জানুয়ারি

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম জয়: ২১ বছর আগের সেই জানুয়ারি