সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণার পর সেখানে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি হাওরে চলাচলকারী সব নৌযানকে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপদ পর্যটন এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাউসবোট নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান পরিচালনা করা যাবে না।
হাওরের পরিবেশ রক্ষায় উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার, পার্টির আয়োজন এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি নৌযানে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার, সেপটিক ট্যাংক এবং কমপক্ষে দুটি ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই হাওর বা জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা যাবে না।
নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাউসবোটের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১০০ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
পর্যটকদের জন্য প্রতিটি হাউসবোটে দৃশ্যমান স্থানে আচরণবিধি এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের জরুরি ফোন নম্বর প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ভ্রমণে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে এবং ঝড়, প্রবল বৃষ্টি বা বজ্রপাতের মতো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান জানান, গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে। টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রশাসনের নজরদারি ও তদারকি আরও জোরদার করা হবে।
কসমিক ডেস্ক