যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলা, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (পিইএসএস) বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাস এবং অন্যান্য মাঠভিত্তিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠের সঠিক পরিচর্যা, সমতলকরণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবকে এ সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, অল্প বৃষ্টিতেই মাঠের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছোট ছোট জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও কাদা এতটাই বেশি যে হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। মাঠের মাঝখানে কাদার স্তর জমে রয়েছে এবং দীর্ঘদিন পরিচর্যার অভাবে ঘাসও অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেছে। ভলিবল কোর্টেও পানি জমে থাকায় সেটিও ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে পুরো মাঠ পানির নিচে তলিয়ে যায়।
প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। ফলে মাঠের এমন অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা মাঠ সমতলকরণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপন এবং দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে সারা বছর খেলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী অংকন তালুকদার বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বৃষ্টি হলেই মাঠ কাদায় পরিণত হওয়ায় খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে। একই মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তিনি দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বিকল্প খেলার মাঠের ব্যবস্থার দাবি জানান।
পিইএসএস বিভাগের শিক্ষার্থী অসীম রায় বলেন, মাঠে পানি জমে যাওয়ায় ব্যবহারিক ক্লাস নিয়মিত ব্যাহত হচ্ছে। একই মাঠে ক্লাস ও খেলাধুলা পরিচালনার কারণে জায়গার সংকটও দেখা দেয়।
এ বিষয়ে শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. শাহেদুর রহমান বলেন, মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব তাঁদের দপ্তরের নয়। তবে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর জানান, মাঠটি সারা বছর খেলাধুলার উপযোগী রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কাজের বাস্তবায়ন প্রকল্পের পরিধি ও বরাদ্দকৃত বাজেটের ওপর নির্ভর করবে।
কসমিক ডেস্ক