বিদেশে চাকরির প্রলোভন, শেষে সাইবার অপরাধে বাধ্যv The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিদেশে চাকরির প্রলোভন, শেষে সাইবার অপরাধে বাধ্যv

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 30, 2026 ইং
বিদেশে চাকরির প্রলোভন, শেষে সাইবার অপরাধে বাধ্যv ছবির ক্যাপশন:

আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারে মানবপাচার এখন ভয়ংকর নতুন রূপ নিয়েছে। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে গিয়ে মানুষকে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণা, নির্যাতন ও দাসত্বে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষকে লক্ষ্য করে এই চক্র সক্রিয়। পাচারকারীরা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম-এর মতো জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ দেখায়।

ব্র্যাক-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। গবেষণা অনুযায়ী, বিদেশে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের ৯৮ শতাংশই কোনো বৈধ কাজ পাননি। বরং তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশকে জোরপূর্বক বিভিন্ন সাইবার জালিয়াতিতে যুক্ত করা হয়েছে। কেউ এতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে কম্বোডিয়া-তে গড়ে ওঠা তথাকথিত ‘স্ক্যাম সেন্টার’গুলো এই অপরাধের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানে পাচার হওয়া ব্যক্তিদের বন্দি করে রেখে অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া বিনিয়োগ স্কিম বা প্রেমের ফাঁদ (রোমান্স স্ক্যাম) পরিচালনায় বাধ্য করা হয়।

বিএমইটি-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেলেও তাদের বড় অংশই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অনেককে চীনা-নিয়ন্ত্রিত অপরাধ চক্রের হাতে বন্দি অবস্থায় থাকতে হয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায়, যখন কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরের জুন মাসে ৫৮৩ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির এই অপব্যবহার রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিদেশে চাকরির প্রলোভনে পড়ার আগে তথ্য যাচাই করা এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় অভিবাসন নিশ্চিত করাই হতে পারে এই ফাঁদ থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আচরণবিধি লঙ্ঘনে সারজিস আলমকে শোকজ

আচরণবিধি লঙ্ঘনে সারজিস আলমকে শোকজ