নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব স্বীকার করে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন বন্ধ হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ দিপকে বলেন, সরকার আলোচনার প্রস্তাব দিলেও সিজেপি মন্ত্রীদের বাসভবনে গিয়ে বৈঠকে অংশ নেবে না। আলোচনায় বসতে হলে সরকারকে যন্তর-মন্তরে অথবা উভয় পক্ষের সম্মত কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আসতে হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা তাদের আস্থা নষ্ট করেছে। তার ভাষায়, সরকার আগেও আলোচনার জন্য ডেকেছিল। কিন্তু দলের মুখপাত্রদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করিয়ে মাত্র কয়েক মিনিট কথা বলা হয়েছিল। তাই এবার তারা নিরপেক্ষ পরিবেশে আলোচনার দাবি জানাচ্ছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের একটি পুরোনো ছবি প্রসঙ্গে, যেখানে তাকে ওড়িশায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে দেখা গিয়েছিল, দিপকে বলেন, এখন তারই যন্তর-মন্তরে এসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দেওয়া উচিত। এমনকি তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত রাখা হবে, সেখানে শুধু তার স্বাক্ষর করলেই হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও দিপকে এটিকে অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, ঘোষণায় প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। তাই আন্দোলনের মূল দাবি—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ—অপরিবর্তিত রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনার কারণে বহু শিক্ষার্থী চরম মানসিক সংকটে পড়েছে, যার দায় সরকারের এড়ানোর সুযোগ নেই।
অভিজিৎ দিপকের দাবি, আন্দোলন এখন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ নেই। মুম্বাই, নাসিক, জয়পুর, বেঙ্গালুরু, মিজোরাম, মধ্যপ্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থী ও তরুণরা একই দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।
তিনি বলেন, লাখো মানুষ যখন একজন শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি দাবি করছে, তখন একজন মন্ত্রীর পদ রক্ষা করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হতে পারে না। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, যাতে কোনো প্রশ্নফাঁস, নিয়োগ অনিয়ম বা শিক্ষার্থীদের ক্ষতির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দায় এড়ানোর সুযোগ না থাকে।
এদিকে বৃহস্পতিবারও দিল্লির যন্তর-মন্তরে হাজারো আন্দোলনকারী সমবেত হন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশই শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ। নিট প্রশ্নফাঁসের পাশাপাশি সিবিএসইর অনলাইন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে অনিয়ম, সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পাবলিক পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিও তুলে ধরেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন যন্তর-মন্তরে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে ২৮ জুন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশনে যোগ দিলে আন্দোলনটি দেশজুড়ে আরও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও তিনি পরে অনশন প্রত্যাহার করেছেন, তবুও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
কসমিক ডেস্ক