বাবার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইসমাইল ইকনের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন তার হাতে নগদ অর্থ, একটি চেক এবং খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসমাইল ইকনের সংগ্রামের গল্প জানার পর জেলা প্রশাসন তার পরিবারের খোঁজখবর নেয়। তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে ইসমাইলকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তার শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
ইসমাইল ইকনের সংগ্রামের খবর প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনও তার পাশে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কাইসার কামাল, বাগেরহাটের লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনসহ অনেকেই আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এসব সহায়তা ইসমাইল ও তার পরিবারের জন্য নতুন করে আশার আলো হয়ে উঠেছে।
ইসমাইল ইকন জানান, সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকের এটিএম বুথে তার চাকরিতে ছুটির ব্যবস্থা করে দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তিনি সহযোগিতাকারী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, বাবার দাফন সম্পন্ন করেই জীবিকার তাগিদে ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং একই সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। তার সেই সংগ্রামের গল্প প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও অসংখ্য হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে আসেন। তাদের সহযোগিতায় ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন ইসমাইল ইকন ও তার পরিবার।
কসমিক ডেস্ক