ভোলার চরফ্যাশনে নকলের সুযোগ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর এবং শিক্ষকদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় মামলাটি করেন। রোববার (১২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া।
জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রটির ৩০৪ নম্বর কক্ষের কিছু পরীক্ষার্থী প্রশ্ন কমন না পড়ার অভিযোগ তোলে। এমসিকিউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী নকলের চেষ্টা করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করেন। এতে একপর্যায়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের বাকবিতণ্ডা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটে।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দুপুর প্রায় ১টা ৫ মিনিটে একদল শিক্ষার্থী কলেজের পকেট গেট ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে। হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে সাতজন শিক্ষক এবং কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতিসহ কয়েকজন আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং পরে কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া জানান, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক