রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে র্যাব-১ এবং বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে একাধিক যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় র্যাব-১-এর প্রতিনিধি দলের পাশাপাশি ইডব্লিউপিডি অ্যান্ড বিএস এবং ইডব্লিউপিডি ল্যান্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন ইডব্লিউপিডি অ্যান্ড বিএস-এর নির্বাহী পরিচালক ও নিরাপত্তা প্রধান মেজর (অব.) মো. মাহাবুবুল ওয়াদুদ, র্যাব-১ অধিনায়ক লে. কর্নেল নেয়ামুল, উপঅধিনায়ক লে. কমান্ডার জাকিউল, ইডব্লিউপিডি ল্যান্ডের মহাব্যবস্থাপক কাজী হাবিবুর রহমান, এএসপি মো. শাহ আলম, এএসপি মো. মুশফিক এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে র্যাব-১ ও বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে নিয়মিত টহল পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও বিক্রি প্রতিরোধে তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়।
এছাড়া উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে। এ বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী মাসিক বা পাক্ষিক ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও আলোচনা হয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, এলাকায় সংঘটিত মব সৃষ্টির ঘটনা, পরিকল্পিত মারামারি এবং অন্যান্য সহিংসতা প্রতিরোধে যৌথ নজরদারি ও টহল জোরদার করা হবে। অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সার্ভার বা কন্ট্রোল রুম শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহযোগিতায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও সভায় উঠে আসে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা বলেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কসমিক ডেস্ক