জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পরিকল্পনা, ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনের তেল মজুদ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পরিকল্পনা, ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনের তেল মজুদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 16, 2026 ইং
জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পরিকল্পনা, ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনের তেল মজুদ ছবির ক্যাপশন:

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে কৌশলগত জ্বালানি তেলের মজুদ ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো যেকোনো বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দেশের অর্থনীতির স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের জ্বালানি তেল মজুদের সক্ষমতা বর্তমান ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৭১ দিনে উন্নীত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৭ সালের মধ্যে তা ৯০ দিনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

চলছে অবকাঠামো উন্নয়ন

এই লক্ষ্য অর্জনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • নতুন তেল ডিপো নির্মাণ
  • সংরক্ষণ ট্যাংক স্থাপন
  • অচল ও অব্যবহৃত ট্যাংক সংস্কার
  • কেরোসিন ও জেট ফুয়েলের উদ্বৃত্ত ট্যাংককে ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা
  • সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত সংরক্ষণাগার ভাড়ায় ব্যবহার

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের বেশি জ্বালানি তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে তা ৭১ দিনে উন্নীত হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনের মজুদ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বছরে কত জ্বালানি প্রয়োজন?

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা ধরা হয়েছে ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন

এর মধ্যে রয়েছে—

  • ডিজেল: ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন
  • ফার্নেস অয়েল: ৭ লাখ ৩৫ হাজার টন
  • জেট ফুয়েল: ৬ লাখ ৬৩ হাজার টন
  • পেট্রোল: ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টন
  • অকটেন: ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টন

বর্তমানে বিপিসির নিজস্ব সক্ষমতায় ডিজেলের ৫৭ দিন, ফার্নেস অয়েলের ৭৮ দিন, অকটেনের ৪৬ দিন এবং পেট্রোলের ২৯ দিনের মজুদ রাখা সম্ভব হচ্ছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের ট্যাংকও ব্যবহার হবে

সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিআরটিসিসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত তেল সংরক্ষণাগার ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।

সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের ট্যাংকে প্রায়—

  • ১ লাখ ৪২ হাজার ২৯৮ টন ডিজেল
  • ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টন ফার্নেস অয়েল

সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে।

জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এসব ট্যাংক ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। এতে নতুন প্রকল্প ছাড়াই দেশের কৌশলগত মজুদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো সম্ভব হবে।

নতুন ডিপো ও ট্যাংক নির্মাণ

বিপিসি ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো চালু করেছে। এতে প্রায় ২৮ হাজার ৪৩৭ টন অতিরিক্ত সংরক্ষণ সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে।

এছাড়া—

  • পার্বতীপুরে আরও ৪টি নতুন ডিপো নির্মাণ
  • কুমিল্লায় ৬টি নতুন ডিপো
  • নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে নতুন ট্যাংক
  • আলীগঞ্জ ডিপোতে অতিরিক্ত সংরক্ষণাগার
  • ভৈরব ও সিলেটে নতুন ট্যাংক নির্মাণ
  • পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন সংরক্ষণাগার

নির্মাণের কাজ চলছে।

একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওমেরার প্রায় ৩০ হাজার টন ধারণক্ষমতার ট্যাংক ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মত

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন জমি অধিগ্রহণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হলে দ্রুত মজুদ সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে অচল ট্যাংক পুনর্ব্যবহার, সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত সংরক্ষণাগার কাজে লাগানো এবং জেট ফুয়েল ও কেরোসিনের ট্যাংক ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা সময় ও ব্যয়—দুই দিক থেকেই কার্যকর উদ্যোগ।

সরকারের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন বা মূল্য অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ আরও প্রস্তুত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ইসলামি দৃষ্টিতে ব্যবসায় সফলতার করণীয় ও বর্জনীয়

ইসলামি দৃষ্টিতে ব্যবসায় সফলতার করণীয় ও বর্জনীয়