২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সেমিফাইনাল। এই হাইভোল্টেজ লড়াইকে ঘিরে যেমন দুই দলের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছে, তেমনি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া রেফারিকেও ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ফিফা জানিয়েছে, আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাঁশি বাজাবেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক রেফারি ইসমায়েল এলফাত।
বিশ্বকাপজুড়ে রেফারিং নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যে আর্জেন্টিনার ম্যাচে কে দায়িত্ব পাবেন, সেটি নিয়ে সমর্থকদের কৌতূহল ছিল শুরু থেকেই। অবশেষে ফিফার ঘোষণায় জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৪৪ বছর বয়সী এলফাতকে।
এই ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে নতুন ইতিহাসও গড়তে যাচ্ছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপের কোনো সেমিফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করবেন ইসমায়েল এলফাত। তার সহকারী হিসেবে থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনসন। চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি থাকবেন দানিয়েল বিনদোনি।
ইসমায়েল এলফাতের জীবনের গল্পও বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। মরক্কোয় জন্ম নেওয়া এলফাত ২০০১ সালে ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারিতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস থেকে ২০০৬ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি টেক্সাসের অস্টিনে বসবাস করছেন।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন এলফাত। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস-জাপান এবং উরুগুয়ে-স্পেন ম্যাচে দায়িত্ব পালনের পর শেষ ষোলোর ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচেও বাঁশি বাজান তিনি। তিন ম্যাচে তিনি মোট ৬টি হলুদ কার্ড এবং একটি লাল কার্ড দেখিয়েছেন।
তার রেফারিং ক্যারিয়ারও সমৃদ্ধ। ২০১২ সাল থেকে মেজর লিগ সকার (MLS)-এ নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করছেন। ২০২২ সালের এমএলএস কাপ ফাইনাল এবং ২০২৬ কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নিরপেক্ষতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য দুইবার এমএলএসের বর্ষসেরা রেফারির স্বীকৃতি পেয়েছেন।
২০১৬ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন এলফাত। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথমবার দায়িত্ব পালন করেন। সেবার ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালে তিনি চতুর্থ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন। এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পেয়ে নিজের ক্যারিয়ারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ঐতিহাসিক এই লড়াইয়ে তার সিদ্ধান্ত, ম্যাচ পরিচালনার ধরন এবং নিরপেক্ষতা বিশেষভাবে নজরে থাকবে। কারণ এবারের বিশ্বকাপে রেফারিং নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। তাই বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ যেমন থাকবে মাঠের খেলায়, তেমনি থাকবে ইসমায়েল এলফাতের প্রতিটি বাঁশির দিকেও।
কসমিক ডেস্ক