রাশিয়া শনিবার ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র, গ্লাইড বোমা এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার পর দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে দ্রুত অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুমি শহরে। সেখানে ব্যস্ত একটি এলাকায় রাশিয়ার ছোড়া দুটি গ্লাইড বোমার আঘাতে পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। একটি বোমা একটি বাসস্টপে আঘাত হানলে একটি যাত্রীবাহী বাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া কাছাকাছি একটি আবাসিক ভবনেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই অঞ্চলে বিস্ফোরক যন্ত্রে পা পড়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
দক্ষিণের বন্দরনগরী ওডেসায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত হন। জাপোরিঝঝিয়ায় গ্লাইড বোমা হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন এবং খারকিভে একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলায় আরও সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার রাতেও রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া, এতে অন্তত ১২ জন আহত হন।
রাতের ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে এবং অস্ত্র সরবরাহ-সংক্রান্ত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি জানান, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং রাশিয়ার উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন।
এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার দখলকৃত দক্ষিণাঞ্চলে পাল্টা ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেনের দাবি, আজভ সাগরে জ্বালানি ও রসদবাহী একাধিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক যাচাই সম্ভব হয়নি। চলমান এই সংঘাত ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে আরও জটিল ও সহিংস পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক