মেলোনি ইস্যুতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফর বাতিল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মেলোনি ইস্যুতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফর বাতিল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 20, 2026 ইং
মেলোনি ইস্যুতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফর বাতিল ছবির ক্যাপশন:

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি-কে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য “অনুরোধ” করেছিলেন এবং তিনি তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে সেই অনুরোধ মেনে নেন। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য “মরিয়া” ছিলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

জবাবে জর্জিয়া মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ “বানোয়াট” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এমন মন্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই মিল নেই এবং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এই বিতর্কের জেরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত সফর বাতিল করেন। তার এই সফরে মায়ামিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইতালি ব্যবসা, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন ফোরামে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

ট্রাম্প ও মেলোনির মধ্যে এটি প্রথম মতবিরোধ নয়। চলতি বছরের শুরুতে ইরান ইস্যুতে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনাও উত্তেজনা তৈরি করেছিল। সে সময় মেলোনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেন।

যদিও রাজনৈতিকভাবে মেলোনিকে ট্রাম্প ইউরোপের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ডানপন্থী মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন, তবুও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাদের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ইরান ইস্যু, অভিবাসন নীতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রশ্নে দুজনের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট হয়েছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরুর পর মেলোনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেন এবং তার অভিষেক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই মন্তব্য সেই সম্পর্ককে নতুন করে চাপের মুখে ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যক্তিগত মন্তব্য এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মিশ্রণে যুক্তরাষ্ট্র–ইতালি সম্পর্কের ওপর সাময়িক চাপ তৈরি হলেও দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। তবে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক যোগাযোগে সতর্কতা বাড়াতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
চরমোনাইয়ের ১৫০ আসনের দাবি, আসন সমঝোতায় চাপে জামায়াত

চরমোনাইয়ের ১৫০ আসনের দাবি, আসন সমঝোতায় চাপে জামায়াত